শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
করোণা মোকাবেলায় সচেতন করছে জাসদ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী প্লাবন। কুমারখালীতে কঠোর বিধিনিষেধ বাড়িয়েছে করোনা, নাগরিক কমিটির উদ্বেগ আক্রান্ত-৮৭ কুমারখালীতে একাধিক মামলার আসামীকে গায়েবী মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ পাটগ্রামে অসহায় আব্বাস আলীর চোখের চিকিৎসা খরচ যোগাতে পাশে দাঁড়ালেন মানবিক বাংলাদেশ সোসাইটি পাটগ্রামে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে প্রতিবেশী শ্বশুর- বউমা উধাও! মিরপুর পৌর এলাকা ৭ দিনের সর্বাত্মক লকডাউন খোকসায় যুদ্ধকালীন সময়ের পরিত্যক্ত গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছে। সাধারণ জনগণকে বোকা বানিয়ে অর্থনৈতীক শোষণ করা হচ্ছে না তোঃপ্লাবন। মেহেরপুরে High flow oxygen canal উপহার দেওয়াই প্লাবনের শুভেচ্ছা পরিবর্তনের মেহেরপুরের এ্যাডমিন সাইদুর রহমান এর সাথে সহমত পোষণ করলেনঃপ্লাবন।
ঘোষনা :
আন্দোলনের ডাক ডটকমে আপনাকে স্বাগতম , সর্বশেষ সংবাদ জানতে  আন্দোলনের ডাক ডটকমের সাথে থাকুন । আন্দোলনের ডাক ডটকমের জন্য  সকল জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহী প্রার্থীগণ জীবন বৃত্তান্ত, পাসপোর্ট সাইজের ১কপি ছবি ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রসহ ই-মেইল পাঠাতে পারেন। শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক পাস এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্র/ছাত্রীগণও আবেদন করতে পারবেন।   আবেদন প্রেরণের প্রক্রিয়াঃ  ই-মেইল: , প্রয়োজনে মোবাইলঃ  




কুষ্টিয়ার জন্য কিছু করে যেতে চান, লেখক, গবেষক ড. এমদাদ হাসনায়েন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ / ১২১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন




কুষ্টিয়ার ইতিহাস-ঐতিহ্য, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র গুণী দম্পতি ড. এমদাদ হাসনায়েন ও সারিয়া সুলতানা। ‘কুষ্টিয়ার ইতিহাস’ গ্রন্থের লেখার মধ্যে দিয়ে ইতিহাস প্রিয় মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন এ দম্পতি।

ড. মুহম্মদ এমদাদ হাসনায়েন কণ্ঠধ্বনি প্রকাশনী’র স্বত্বাধিকারী এবং কুষ্টিয়ার কোবাডাক হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক।

কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক ড. মুহম্মদ এমদাদ হাসনায়েন বলেছেন, কুষ্টিয়ার জন্য কিছু করে যেতে চাই। তিনি বলেন, যতদুর যাই আমাদের জন্মভূমি তত বেশি বড় হতে থাকে।

তিনি বলেন, আমাদের কুষ্টিয়াকে আলোকিত করেছেন আধ্যাত্মিক সাধক ফকির লালন শাহ্, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গ্রামীণ সাংবাদিকতার প্রবাদপুরুষ কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার, বাউল সংগীত রচয়িতা গগন হরকরা, সুসাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন, প্রাবন্ধিক রায় বাহাদুর জলধর সেন, ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (বাঘা যতীন), বিচারপতি ড. রাধাবিনোদ পাল, ড. কাজী মোতাহার হোসেন, কথাশিল্পী আকবর হোসেন, সুলেখিকা জোবেদা খানম, শিশুসংগঠক রোকনুজ্জামান খান (দাদা ভাই), ছোটগল্পের কথাশিল্পী নাজমুল আলম, সংস্কৃতি সেবী ড. সন্জীদা খাতুন, আবৃত্তিকার সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, ইতিহাস গবেষক শ্রীমোহিত রায়, কালজয়ী কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার, নাট্যকার কল্যাণ মিত্র, স্থপতি রবিউল হুসাইন, গীতিকার আবু জাফর, সংগ্রামী শিল্পী রফিকুল ইসলাম ইতি খান, বেসামরিক কবি সৈয়দ নাসের কর্নেল প্রমুখ।

তিনি উল্লেখ করেন, পিতার চাকুরি সুবাদে আমরা কুষ্টিয়াতে আসি ১৯৭৬ সালে। ১৯৭৮ সালে আমলাপাড়া সারদা ৪নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা যাত্রা শুরু। ১৯৮১ সালে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হই, ১৯৮৮ সালে এসএসসি শেষ করি। ১৯৯০ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ইতিহাসের স্বাক্ষী কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৯১-৯২ শিক্ষাবর্ষে অর্থনীতিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যলয়ে ভর্তি হই। সম্মান ও মাস্টার্স শেষ করে ২০০১-২০০২ শিক্ষাবর্ষে এমফিল এ ভর্তি হই। আমার গবেষণার বিষয় ছিল Socio-Economic Impact of Bangabandhu Bridge in Bangladesh (যা ছিল সম্পূর্ণ মাঠ পর্যায়ের গবেষণার বিষয়)। পরবর্তীতে ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে পিএইচডি’তে ভর্তি হই। এবারে গবেষণার বিষয় ছিল Revenue and Expenditure of Transport and Communication Systems in Bangladesh| মাস্টার্স লেখাপড়া শেষ করে কিছুদিন চাকুরি করেছি।

তিনি বলেন, তারপর ভেবেছি নিজেই কিছু করবো। ভেবেছি এমন কিছু করে যেতে হবে কুষ্টিয়ার জন্য। ২০০২ সাল থেকেই ‘কুষ্টিয়ার ইতিহাস’ গ্রন্থের জন্য তথ্য সংগ্রহ করি এবং প্রকাশ পায় ২০১৮ সালে একুশে গ্রন্থ মেলায়। পরবর্তীতে ভাবলাম এপার বাংলা ওপার বাংলার জন্য কিছু করতে। তাই ভেবে লিখি ‘দুই বাঙলার নান্দনিক কবিতা’ ১০১ কবি ৩৬৫ কবিতা। যা দুই বাংলাকে সমাদৃত করবে। গ্রন্থটি প্রকাশ পায় ২০১৯ সালে। ২০২০ সালে আরেকটি গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রকাশ করি যা, ‘ধর্মীয় ইতিহাস স্থাপত্যে কুষ্টিয়া’। এই গ্রন্থ লেখার উৎসাহ ছিল ‘কুষ্টিয়ার ইতিহাস’ তথ্য সংগ্রহ থেকেই। একই সালে ‘কুষ্টিয়ার ইতিহাস’ দ্বিতীয় সংস্করণ এসেছে আমার নিজস্ব প্রকাশনী ‘কণ্ঠধ্বনি’ হতে। সত্যনিষ্ঠ নিরলস গবেষণা বস্তুত এই গ্রন্থ গবেষণা গ্রন্থের ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমার ইচ্ছা আছে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কলকাতা ‘বাংলার ইতিহাস’ এর উপর পোস্ট ডক্টরাল করার। জানিনা আল্লাহ পাক সে আশা পরিপূর্ণ করবেন কিনা! ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস ক্লাবের সাথে যুক্ত ছিলাম, সে সময় থেকেই লেখালেখি শুরু। আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি অধ্যাপক ড. অরবিন্দ স্যারকে। তার হাত ধরেই আমার গবেষণার হাতেখড়ি।
তিনি বলেন, বিশিষ্ট সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায় তাঁর চাকুরি জীবনে কুড়ি মাসের কর্মস্থল কুষ্টিয়া প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “একসময় ভেবেছিলুম চাকুরি থেকে অবসর নিয়ে, কুষ্টিয়ার কাছে স্থায়ীভাবে বসবাস করব। জায়গাটা বাংলাদেশের কর্মস্থল, লোকজন কত ভালো, হিন্দু-মুসলমান যেমন সদ্ভাব, বাউল ফকির বৈষ্ণবদের কত প্রভাব, রবীন্দ্রনাথের শিলাইদহ, লালন ফকিরের ছেউরিয়া, কাব্য ভাষাও কী মধুর। আমার শেষ জীবন কাটাতে চাই কুষ্টিয়া জেলায়, বাংলাদেশের হৃদয় যেখানে।”
তিনি উল্লেখ করেন, কুষ্টিয়ার অনেকেই ভালো লিখেছেন ও লিখছেন। তাঁদের মধ্যে প্রথাবিরোধী গবেষক মিলন সরকার, সাংবাদিক আবদুর রশীদ চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক লেখক মেজর রফিকুল ইসলাম, শিক্ষানুরাগী ড. নাসরিন আহমেদ, সুসাহিত্যিক ড. আবুল আহসান চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত, সাহিত্য গবেষক বিলু কবীর, কথাসাহিত্যিক মামুন হুসাইন, কবি সৈয়দা রাশিদা বারী, নাট্যকার মাসুম রেজা, ছড়াকার সোহেল আমিন বাবু, কবি আতিক হেলাল, কবি আলম আরা জুঁই, শিশুসাহিত্যিক দীপু মাহমুদ সহ আরো অনেকে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে বলতে গেলে, আমাদের সময় কয়েকটি বই নিয়ে স্কুলে যেতাম আর এখন শিশুর ওজনের চাইতে বই এর ওজন বেশি। আমাদের সময়ের স্কুল এখনও আমরা দেখতে পাই, আজকের শিশুদের স্কুল ভাড়া বাড়িতে স্কুল করে, নেই মাঠ খেলার সরঞ্জাম। এক সময় দেখবে তাঁর ছোটবেলার সেই স্কুল ঘরটি আর নেই। স্কুল শিক্ষা থেকেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে কোনটা ‘আমার’ আর কোনটা ‘আমাদের’ এই বুঝটা দিয়ে দিতে হবে, আমি তার নাম দিয়েছি ‘জীবন শিক্ষা পাঠশালা’। আজকে আমরা যে বিষয়ে লেখাপড়া করেছি, কর্মক্ষেত্রে অন্য পদে কর্মযোজ্ঞ চলছে। আমাদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। তাহলেই আগামী প্রজন্ম নতুন করে দেশকে তৈরি করতে পারবে। ইনশাআল্লাহ্সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এই প্রত্যাশায়।আল্লাহ হাফেজ।

লেখক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক ড. মুহম্মদ এমদাদ হাসনায়েন এর সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত
জন্ম: ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩
পিতা: অধ্যক্ষ মুহম্মদ আমজাদ হোসেন (সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)
মাতা: আম্বিয়া খাতুন (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক)
স্ত্রী: ড. সারিয়া সুলতানা
কন্যা: মেহজাবীন মুমতাহিনা
স্থায়ী ঠিকানা: কপোতাক্ষ, ৭/৩ খ. সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন সড়ক, কাটাইখানা মোড়, কুষ্টিয়া
ই-মেইল: dr.hasnayen@gmail.com
ফোন: অফিস (০৭১-৭৩৭৮৮); ০১৭১৯১৬১৩৫৫
পেশা: কণ্ঠধ্বনি প্রকাশনী’র স্বত্বাধিকারী এবং পরিচালক, কোবাডাক হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার, কুষ্টিয়া
লেখালেখি: প্রবন্ধ, ইতিহাস ও গবেষণামূলক গ্রন্থ
গবেষণার বিষয়: বাংলার ইতিহাস
ইচ্ছে: কুষ্টিয়াকে বিশ্বের দরবারে মেলে ধরা
গবেষণামূলক গ্রন্থ: ‘কুষ্টিয়ার ইতিহাস’ এবং ‘ধর্মীয় ইতিহাস স্থাপত্যে কুষ্টিয়া’
সম্পাদিত গ্রন্থ: ‘দুই বাঙলার নান্দনিক কবিতা’ ১০১ কবি ৩৬৫ কবিতা
প্রবন্ধ: ৫টি
সংগঠনের সম্পৃক্ততা: ১. বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি (জীবন সদস্য); ২. লালন একাডেমি (জীবন সদস্য); ৩. বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতি (জীবন সদস্য)

সম্মাননা:
১. আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা পদক, ঢাকা, ২০১৮
২. কুষ্টিয়া গুণীজন সংবর্ধনা, কুষ্টিয়া, ২০১৮
৩. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী এ্যাওয়ার্ড, ঢাকা, ২০১৮
৪. প্রাপ্তি গ্রন্থপদক সম্মাননা, কুষ্টিয়া, ২০১৮
৫. ভালোবাসার কুষ্টিয়া গুণীজন সংবর্ধনা, কুষ্টিয়া ২০১৯
৬. চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় সম্মাননা, ঢাকা, ২০১৯
৭. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক, ঢাকা, ২০২০





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....




Archives

এক ক্লিকে বিভাগের খবর