শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
অসহায় মানুষের পাশে বিশিষ্ট সমাজসেবক হুমায়ুন কবীর কুষ্টিয়ায় ব্যবসায়ীদের সাথে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা মিরপুরে জিকে ক্যানেলে ভাসমান লাশ উদ্ধার। শৈলকুপায় জমি নিয়ে সংঘর্ষে আহত-৮, মসজিদের পিলার ভাংচুর ভাটার মাটি রাস্তায়, জনদুর্ভোগ চরমে! তথ্য সংগ্রহকালীন সাংবাদিক লাঞ্ছিত করোনাকালে প্রণোদনার কোটি কোটি টাকা ঝিনাইদহের কারা পেলো? দৌলতপরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ জনকে জরিমানা দৌলতপুরে আল- সালেহ লাইফ লাইন বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্দ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ দর্শনা থানা পুলিশের মাদক অভিযানে এক কেজি গাঁজা সহ হারুন আটক। আল সালেহ লাইফ লাইনের ভালোবাসার উপহার গরিব দুস্হ অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসহায়তা
ঘোষনা :
আন্দোলনের ডাক ডটকমে আপনাকে স্বাগতম , সর্বশেষ সংবাদ জানতে  আন্দোলনের ডাক ডটকমের সাথে থাকুন । আন্দোলনের ডাক ডটকমের জন্য  সকল জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহী প্রার্থীগণ জীবন বৃত্তান্ত, পাসপোর্ট সাইজের ১কপি ছবি ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রসহ ই-মেইল পাঠাতে পারেন। শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক পাস এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্র/ছাত্রীগণও আবেদন করতে পারবেন।   আবেদন প্রেরণের প্রক্রিয়াঃ  ই-মেইল: , প্রয়োজনে মোবাইলঃ  

ইসলামে আত্বীয়তার বন্ধন ও সম্পর্ক; লেখকঃ ড. মোঃ আব্দুল গাফফার মল্লিক

ড.মোঃ আব্দুল গাফ্ফার মল্লিক ঃ / ২৭৭ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন

ইসলামে আত্বীয়তার বন্ধন ও সম্পর্ক;

ড. মোঃ আব্দুল গাফফার মল্লিক

পৃথিবীতে প্রথম মানুষ ও প্রথম নবী হলেন আমাদের আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)। এরপরে তার স্ত্রী মা হযরত হাওয়া (আঃ)। তাদের মাধ্যমেই পৃথিবী জুড়ে মানুষের আগমনধারা শুরু হয়েছে এবং বিশ্বজগত ধংশ হওয়া পর্যন্ত মানবজাতির জন্মের এ ধারাবাহিকতা চলতেই থাকবে। পৃথিবীতে মানুষ পিতামাতার মাধ্যমেই জন্ম লাভ করে জন্মসূত্রে পরস্পরের আত্মীয়। জন্মের দিক থেকে একজন মানব সন্তানের প্রথম ও প্রধানতম আত্মীয় হলেন তার জন্মদাতা পিতা-মাতা। তারপরে ভাই-বোন, বৈমাত্রেয়-বৈপিত্রেয় এরপরে রক্তের সম্পর্কীয় আত্মীয়-স্বজন। দাদা-দাদী, চাচা-চাচী, ফুফু-ফুফা, নানা-নানি, মামা-মামি, খালা-খালু। বৈবাহিক সূত্রের মাধ্যমেও মানুষ একে অপরের আত্মীয় হয়ে থাকে। বৈবাহিক সম্পর্কীয় সম্মন্ধের ক্ষেত্রে স্ত্রী হল তার প্রথম আত্মীয়। স্ত্রীর পিতা-মাতাসহ তাদের সকল প্রকারের আত্মীয়-স্বজনও আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যায়। অনুরুপভাবে, স্বামী-স্ত্রীর উভয় পক্ষের লোকজনও পরস্পরের আত্মীয়স্বজন হয়ে থাকেন। শশুর-শাশুড়ি, বেয়াই-বেয়াইন, ভাশুর-দেবর-ননদ, তাওই-মাওয়ই উভয়ের আত্মীয় স্বজনও বৈবাহিক কারণে আত্মীয় হয়ে থাকে। এই দুনিয়াতে মানব সন্তানের প্রধান আত্মীয় হলেন তার জন্মদাতা পিতা-মাতা ও ভাই-বোন। সুতরাং সর্বপ্রথম তাদের হক ও অধিকার আদায় করতে হবে। উভয়ে জীবিত থাকুক বা ইন্তিকাল করুক। জীবিত অবস্থায় তাদের মৌলিক ও মানবীয় চাহিদাসমুহ মেটানো। তাদের ইন্তিকালের পরেও তাদের জন্য দু‘আ, ইস্তিগফার করা, দান-খয়রাত, সাদাকাহ প্রদান করা। পিতা-মাতার হক উভয় অবস্থাতেই বজায় থাকে। মারা যাওয়ার মাধ্যমে তাদের হক বিলুপ্ত হয়ে যায় না।
হাদীস শরীফে- পিতার থেকে মায়ের অধিকারের কথা তিনবার বলা হয়েছে, মা সন্তানকে দশমাস দশদিন গর্ভে ধারণ করে থাকেন। প্রসবের কষ্ট ভোগ করেন। জন্মের পরে লালন-পালন করে বড় করে তোলেন। একটি শিশুর সকল প্রকার ঝামেলা মাকে পোহাতে হয়। তাই সন্তানের কাছে মায়ের অধিকারটি সবচেয়ে বড়। মায়ের দু‘আ সন্তানদের জন্য অনেক বড় আশির্বাদ হিসেবে কাজে লাগে। যেমন-
হযরত মুসা (আঃ) একদিন আল্লাহর কাছে জানতে চাইলেন তাঁর সাথে জান্নাতে কে থাকবেন? উত্তরে আল্লাহ তায়ালা বললেন, তোমার সাথে জান্নাতে এক কসাই থাকবেন। হযরত মুসা (আঃ) আশ্চর্য হয়ে আল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসা করলেন, কসাইয়ের এমন কী আমল আছে যে, যার কারণে আপনি আমার সাথে জান্নাতে তাঁকে বসবাস করতে দিবেন? আল্লাহ বললেন, হে মুসা তুমি যদি তা জানতে চাও তাহলে ঐ কসায়ের কাছে যাও। হযরত মুসা (আঃ) আল্লাহর নির্দেশমত ঐ কসাইয়ের কাছে গেলেন এবং দূর থেকে দেখতে লাগলেন কসাই কি করে! তিনি দেখলেন, কসাই গোস্ত বিক্রি শেষ করে গোস্তের দোকান বন্ধ করে সামান্য কিছু গোস্ত নিয়ে বাড়ির দিকে রওয়ানা দেন। হযরত মুসা (আঃ) তার পিছনে পিছনে যায় কাসাই বাড়িতে গিয়ে গোস্তগুলো ছোট-ছোট করে কেটে রান্না করে, আর কিছু রুটি বানায়। তারপর ঘরে ঢুকে এক বৃদ্ধা মহিলাকে যত্ন করে ধরে বসায় এবং তারপর বৃদ্ধাকে গোস্ত আর রুটি ছোট ছোট করে খাওয়াতে থাকেন। হযরত মুসা (আঃ) অবাক হয়ে এসব বিষয় দেখতে থাকেন কিছুক্ষণ পর তিনি লক্ষ্য করলেন ঐ বৃদ্ধা মহিলা কসাইয়ের কানে কানে কি যেন বলছেন আর কসাই তাঁর কথা শুনে মুচকি মুচকি হাসতেছে। খাওয়া শেষ হলে কসাই বাহিরে আসে হযরত মুসা(আঃ) তাঁর পরিচয় গোপন রেখে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ঐ বৃদ্ধ মহিলা আপনার কানে কানে কি বললো যা শুনে আপনি হাসলেন? কসাই উত্তরে বললেন, উনি আমার মা। আমি প্রতিদিন এইভাবে আমার মাকে খাইয়ে দেই আর মা আমার কানে কানে বলেন আল্লাহ তোমাকে মুসা(আঃ) নবীর সাথে জান্নাত দান করুক আর আমি মায়ের কথা শুনে হাসি, বলি কোথায় হযরত মুসা (আঃ) আর কোথায় আমি! হযরত মুসা(আঃ) তার কথা শুনে কাঁদতে থাকেন আর তাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বলেন, তোমার মায়ের কথা আল্লাহ তায়ালা কবুল করেছেন। আমি মুসা যার সাথে আপনি জান্নাতবাসী হবেন। বাবা- মায়ের দু‘আ সন্তানদের জন্য পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নিয়ামাত। যা আল্লাহর দরবারে সরাসরি কবুল হয়।
মহানবী (সাঃ) বলেছেন, “ইজা মাতাল ইনছানু ইনকাত্বয়া লাহু আমালাহু ইল্লা বি ছালাসাতিন ইল্লাবি সাদাকাতিন জারিয়াতিন, আও ইলমীন ইয়ানতাফায়ু বিহি, আও ওয়ালাদিন সালিহ ইয়াদয়ু লাহু।” অর্থাৎ হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যখন মানুষ মারা যায়, তিনটি কাজ ছাড়া মানুষের আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমটি হলো, সাদকায়ে জারিয়াহ অর্থাৎ অর্জিত ধন-সম্পদ থেকে সাদকা করা, দ্বিতীয়টি হলো, এমন জ্ঞান অর্জন করা, যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হবে। আর তৃতীয়টি হলো, এমন নেক সন্তান রেখে যাওয়া, যে সন্তান মৃত্যুর পর তাদের জন্য দু‘আ করবে।( মুসলিম) এরপরে অন্যান্য নিকটতম আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদচারণ, সদ্ভাব, ভালোবাসার বন্ধন ও সম্প্রীতি বজায় রেখে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা ইসলামের নির্দেশ রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “ওয়া আতাল মালা আলা হুববিহি যা বিল কুরবা” অর্থাৎ তারা ধনসম্পদের প্রতি নিজেদের প্রয়োজন ও ভালবাসা থাকা সত্ত্বেও আত্মীয়-স্বজনদের দান করে। ( সুরা আল বাকারা, আয়াত- ১৭৭) আল্লাহ তায়ালা আরো বলেছেন,“আর উপাসনা কর আল্লাহর, শরীক করো না তার সাথে অপর কাউকে। পিতামাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্বীয়.. প্রতি।” (সুরা নিসা, আয়াত-৩৬) (তাফসীরে মাআরেফুল কোরআন পৃষ্ঠা-২৪৮) বিশ্বনবী (সাঃ) বলেছেন, “মান আহাব্বা আইউবছাতা লাহু ফি রিজকীহি ওয়া উনছালাহু ফি আছারিহি ফালইয়াছিল রাহিমাহু।” অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিজের জীবিকায় প্রাচুর্য ও মৃত্যুর বিলম্বতা কামনা করে, সে যেন আত্বীয়-স্বজনের সাথে উত্তম ব্যবহার করে। (বুখারী ও মুসলিম)
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আর রাহিমু শুজনাতুন মিনার রাহমানি, ফাক্বলাল্লাহু তায়ালা মান ওয়াছালাকে ওয়াছালতুহু ওয়া মান ক্বাতায়াকে ফাক্বতায়তুহু।” অর্থাৎ রাহম (আত্বীয়তা) শব্দটি আল্লাহ তায়ালার গুণবাচক নাম রাহমান শব্দ হতে নির্গত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা রাহম বা আত্বীয়তাকে বলেছেন, যে ব্যক্তি তোমার সাথে সম্পর্ক করে আমি তার সাথে সম্পর্ক হবো। আর যে তোমাকে ছিন্ন করে আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবো। (সহীহ বুখারী) উক্ত হাদীস থেকে জানা যায় যে, আত্বীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী আল্লাহর রহমত ছিন্নকারী। আর যে ব্যক্তি আত্বীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে সে যেন আল্লাহর সাথেই সম্পর্ক বজায় রাখে। আত্বীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীকে হাদীসে ডাকাতের সাথে তুলনা করা হয়েছে। আর ডাকাতরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। অর্থাৎ “লা ইয়াদখুলুল জান্নাতা ত্বরিকুন।” রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “লা ইয়াদখুলুল জান্নাতা ক্বাতিউন।” অর্থাৎ আত্বীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার গুরুত্ব
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “এবং যারা আল্লাহ যা সংযুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তা সংযুক্ত রাখে অর্থাৎ আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে, নিজেদের প্রতিপ্রালককে ভয় করে ও কঠিন হিসাবের আশংকায় থাকে।” (সুরা রাদ আয়াত: ২১)। এই আয়াতের তাফসীর হলো, আল্লাহ তায়ালা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে আদেশ করেছেন। তারা সেসব সম্পর্ক বজায় রাখে। (তাফসীরে মাআরেফুল কোরআন পৃষ্ঠা-৭০৪) ইবলিশ শয়তান মানুষের মধ্যে তুচ্ছ বিষয়েই পরস্পরের মাঝে হিংসা-বিদ্বেষ তৈরী করে দেয়। মানুষের দ্বারা মানুষ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও যে সব কারণে একে অপরের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন করারও কারণ হয়ে দাড়ায় তবুও ইসলামী শরীয়ত সম্পর্ক রক্ষা করে চলার নির্দেশ প্রদান করেছে। ক্ষুদ্র ঘটনার কারণে আত্মীয়তার বন্ধন ও সম্পর্ক ছিন্ন করার মধ্য দিয়ে আল্লাহর নির্দেশকেই মুলত অমান্য করা হয়। যা ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াতে রাগ হয়ে থাকলেও কিয়ামতের দিনে আল্লাহ নিকট যার কোন মূল্য নেই। সালাত, সওম, হজ্জ ও যাকাতের ন্যায় ইসলামের ধর্মদর্শনের মৌলিক ইবাদাতসমুহের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ও বন্ধন অটুট রাখার জোর তাকিদ প্রদান করা হয়েছে। এর ব্যতয় হলে তার শাস্তির যেমন ঘোষণা রয়েছে অপর দিকে এর পালনকারীদের ব্যপারেও পরকালের প্রতিদানের কথা বলা হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মীতার সম্পর্ক ছিন্নকারীকে তিরস্কার করা হয়েছে। এটি একটি জঘন্য অপরাধ। কুরআন ও হাদীসে এর কঠিন পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “তাহলে কি এমন হতে পারে যে, ক্ষমতা পেলে তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে।” (সুরা মুহাম্মদ, আয়াত- ২২) এক হাদীসে আছে, আল্লাহ তায়ালা যেসব গুনাহের শাস্তি ইহকালেও দেন এবং পরকালেও দেন, সেগুলোর মধ্যে নিপীড়ন ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার সমান কোন গুনাহ নেই। (তাফসীরে মাআরেফুল কোরআন পৃষ্ঠা-১২৬০) আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “নিকটজনের অধিকার আদায়ে এবং আত্মীয়কে তার প্রাপ্য অধিকার দাও।” (সুরা বনী ইসরাঈল, আয়াত- ২৬) বড়ই আফসোসের বিষয়, আমাদের মুসলিম সমাজেও নিজের পিতামাতার প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য ও আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর পর্যন্ত নেয় না। এব্যাপারে তারা বড়ই বেখবর গাফেল ও বেখেয়ালী হয়ে রয়েছে। পরস্পরকে দায়ী করে। তারা বলে আমার আত্মীয়রাই তো আমাদের খবর নেয় না। আমি একা এজন্য দায়ী নই। এই বক্তব্য দ্বারা সে নিজেকে এড়িয়ে যেতে পারে না। হাদীস থেকে জানা যায়, আত্মীয়তার অধিকারের ক্ষেত্রে অপরপক্ষ থেকে সদ্ব্যবহার আশা করা উচিত নয়। যদি অপরপক্ষ সম্পর্ক ছিন্ন ও অসৌজন্যমূলক ব্যবহারও করে, তবুও তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করা উচিত।
আত্মীয়- স্বজনের হক আদায় করার অর্থ হলো, তাদের সাথে সুন্দরভাবে জীবন যাপন ও সদ্ব্যবহার করতে হবে। যদি তারা অভাবগ্রস্ত হয়, তাদের সাধ্যমত সহযোগীতা প্রদান করতে হবে। (তাফসীরে মাআরেফুল কোরআন পৃষ্ঠা-৭৭৩) ইমাম আযম আবু হানিফা (রহঃ) বলেন, যাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক নিষেধ এমন আত্মীয় মহিলা কিংবা বালক- বালিকা হয়, নিঃস্ব হয় এবং উপার্জন করতে সক্ষম না হয়, এমনিভাবে সে যদি বিকলাঙ্গ কিংবা অন্ধ হয়, জীবনধারণের মত ধন- সম্পদের অধিকারী না হয়, তবে তার ভরণ- পোষণ করা সক্ষম আত্মীয়দের উপর ফরয।
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা একটি ঈমানী দাবী। মানুষ রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়-স্বজনের সাথে নানাবিধ কারণে ভাল সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। মান- অভিমান, ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণ আত্মীয় স্বজনের মধ্যে মতপার্থক্য, দলাদলি ও মনোমালিন্য তৈরী হয়ে থাকতে পারে। জামা-জমি, ব্যবসা-বাণিজ্য, ছেলে-মেয়ের ঝগড়া, একান্নবর্তী পরিবারের ভাইবোনে, স্বামী-স্ত্রী, বৌদের মধ্যে কথাকাটাকাটি, তর্ক-বিতর্ক, একে অপরের মধ্যে মারামারি, হানাহানি, কুটনামী, গিল্লা- গীবত, পরচর্চা, পরনিন্দা, কান কথা বলা ও শুনা, পরস্পরের কথা লাগানোর দ্বারা পরস্পরের আত্মীয়তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সম্পর্কের অবনতির অন্যতম কারণ হলো, পরস্পরে হিংসা করা। আত্মীয়দের মধ্যে কেউ একটু ভাল আছে বা এগিয়ে আছে ব্যস হিংসা করা শুরু হয়ে গেল। এমনটি করা অনুচিত। মহানবী (সাঃ) বলেছেন, হিংসা মানুষের নেক আমলগুলি খেয়ে ফেলে, আগুন যেমন কাঠকে খেয়ে ফেলে ঠিক তদ্রুপ হিংসাও মানুষের নেক আমলগুলো খেয়ে ফেলে বা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ধন-সম্পদের আধিক্যতা বা স্বল্পতাও হিংসার কারণ হতে পারে। পৃথিবীতে মানুষ সবাই ধনে-জনে, জ্ঞানে বিদ্যা-বুদ্ধিতে একসমান নয়। কেউ ধনী কেউবা গরীব। কোন কিছু না পাওয়ার আকাংখায়ও মানুষ হিংসুটে ও স্বার্থপর হয়ে উঠে। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণেও অনেকে একে অপরের মুখ দেখাদেখি, কথাবার্তা পর্যন্ত চলে না। ¯া^ামী একটি দল করে, স্ত্রীও আরেকটি দল করছে, আবার সন্তান আরেকটি দল করে। আমাদের বর্তমান পরিবারগুলো দলীয় নেতাকর্মীতে ভরে গেছে। কেউ কাউকে সম্মান ও শ্রদ্ধার চোখে দেখে না। ভেদ ও মতভেদের চতুর্মুখী বেড়াজালে তারা আবদ্ধ হয়ে রয়েছে। সমাধানের পথ হলো, নানা মত ও পথ থাকবে কোন কিছুর দ্বারা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করে দেয় এমন কোন সংকীর্ণ বিষয়ের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধনকে জড়িয়ে ফেলা যাবে না। আত্মীয় স্বজনদের দ্বারা ব্যক্তি যে পরিমান জুলুম, নির্যাতন- নিপীড়নের স্বীকার হয় ফলে তারা আত্মীয়তার পরিচয় দিতে কুন্ঠাবোধ করে। নিকাত্মীয়- স্বজনদের ছেড়ে তারা বাইরের পাড়া-প্রতিবেশিদের সাথেই মেলবন্ধন ও মিলামেশা আরম্ভ করে। ফলে মানুষ নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে“ তাদের বক্তব্য আত্মীয় থেকে পর ভাল, পরের থেকে জঙ্গল ভাল।” কিন্ত এটি ইসলামী শরীয়ত সমর্থন করে না। অবশ্যই আত্মীয়- স্বজনের সাথে নিবীড় ও গভীর সম্পর্ক রক্ষা করে চলতে হবে। আত্মীয়দের কেউ মারা গেলে আত্মীয়- স্বজনের যেমন হৃদয়ের রক্তক্ষণ হয় সেটি বলে কয়ে বুঝানো যাবে না। অনাত্মীয়দের বুঝানো যাবে না। আত্মীয়তার সম্পর্ক কোন ঠুনকো বিষয় নয়। শিশুকালের কোন পুতুল খেলার ব্যাপার নয়। এটি স্বাভাবিকভাবে জীবন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এমনকি পরকালিন জীবন পর্যন্ত এ সম্পর্ক অটুট রাখতে ইসলাম জোর তাকিদ প্রদান করেছেন।
বর্তমানে ছেলেমেয়েরা পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন থেকে বিছিন্ন হয়ে বিপথগামী ও উদাসীন হয়ে রয়েছে। ভার্চুয়াল জগতের লীলাখেলায় মত্ত হয়ে দিন-রাত একাকার করে ফেলেছে। ইউটিউব, ফেইসবুক, ইন্টারনেটে গেম খেলায় ও চ্যাট করতে করতে কখন সকাল কখন বিকেল ও রাত সেটিও ভুলতে বসেছে। বাবা-মা ও বড়দের সম্মান করা, তাদের কথা শুনা গুরুজনকে মান্য করে চলার মধ্যে ডোন্ট কেয়ারভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। সন্তানদের এপথ থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। উপদেশ ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে তাদের এই বয়ঃসন্ধিকালে সময়ের গুরুত্ব ও সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর পথ ঠিক করে দিতে হবে। পড়ালেখার কাজগুলোর তদারকী করতে হবে। তাদের সাথে মিশতে হবে ও সন্তানদের সাথে নিয়ে কাজের শেয়ার করতে হবে যেন পরিবারটি আদর্শ পরিবার রুপে গড়ে উঠে। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ীতে সন্তানদের নিয়ে মাঝেমাঝে বেড়াতে যেতে হবে।
পরিশেষে, তাদের সুখে-দুঃখে, বিপদ-আপদে এগিয়ে আসতে হবে। সাধ্যমত সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। তাদের সকলের কল্যাণ কামনা করতে হবে। আত্মীয়রা আমাদের জন্য রেখে গেছেন সহায় সম্পদ। আমাদের বড় করে তুলেছেন, শিক্ষিত মানুষ করে গড়ে তুলেছেন। পৃথিবীতে যেমন তাদের অধিকার আদায়ে সচেতন ও সজাগ হতে হবে অনুরুপভাবে তাদের মৃত্যুর পরেও তাদের জন্য দু‘আ, ইস্তিগফার করতে হবে। তাদের রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে দান- সাদাকাহ ও সাদকায়ে জারিয়ার এবং মানবতার কল্যাণে ব্যয় করতে হবে। মহানবী (সাঃ) বলেছেন, “প্রত্যেক বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সকল মানুষের ইবাদাত-বন্দেগী আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়, কিন্তÍ যে ব্যক্তি আত্মীয়-স্বজনের সাথে অসদ্ব্যবহার করে, তার কোন ইবাদাত- বন্দেগী আল্লাহ তায়ালার দরবারে কবুল করা হয় না।”( বেহেশতী জেওর ৭ম খন্ড পৃষ্ঠা ২৯৭) মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের পরস্পরের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় রাখার তাওফিক দান করুন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

এক ক্লিকে বিভাগের খবর