শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা :
আন্দোলনের ডাক ডটকমে আপনাকে স্বাগতম , সর্বশেষ সংবাদ জানতে  আন্দোলনের ডাক ডটকমের সাথে থাকুন । আন্দোলনের ডাক ডটকমের জন্য  সকল জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহী প্রার্থীগণ জীবন বৃত্তান্ত, পাসপোর্ট সাইজের ১কপি ছবি ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রসহ ই-মেইল পাঠাতে পারেন। শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক পাস এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্র/ছাত্রীগণও আবেদন করতে পারবেন।   আবেদন প্রেরণের প্রক্রিয়াঃ  ই-মেইল: , প্রয়োজনে মোবাইলঃ  

বিনাসুদে ঋণ পেলে ঘুরে দাঁড়াবে সম্পা

সাজ্জাদ হোসেন সেতু / ৩৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

বিনাসুদে ঋণ পেলে ঘুরে দাঁড়াবে সম্পা

কুষ্টিয়া থেকেঃ ২০১৯ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর দু’চোখে যেন অন্ধকার দেখছিলেন ফিরোজা আক্তার সম্পা। দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে পড়লেন অথৈ সাগরে। তবে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে জীবনের ঘুরে দাঁড়িয়েছেন এই নারী।
শুধু তাই নয়, সেখান থেকে বিনামূল্যে পাওয়া সেলাই মেশিন দিয়ে তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন। এরপর আর তাকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছেন। পাশাপাশি ছেলেমেয়েকে লেখাপড়া শেখাচ্ছেন। বলছিলাম কুষ্টিয়া শহরের ফিরোজা আক্তার সম্পার কথা।
ফিরোজা আক্তার সম্পা আরও বলেন, আমি তো কেবল সেলাইয়ের কাজ করি।দোকান থেকেই মানুষের পোষাক তৈরী করে থাকি। যদি বিনাসুদে ঋণ কিংবা অন্য কোন উপায়ে যদি সহযোগীতা পেতাম তাহলে দোকানে কিছু তৈরী পোষাক কিংবা কাপড় রাখতাম তাহলে আমার ক্রেতারাই এখান থেকে সেগুলো কিনতাম। তাহলে আমি আমার সন্তানদের নিয়ে ভালােভাবে চলতাম। তাদেরকে মানুষের মতো মানুষ করতাম।
কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার স্বামী ঢাকায় ছোট একটা চাকরি করতেন। কিন্তু ২০১৯ সালের স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি দু চোখে অন্ধকার দেখছিলেন৷ নিজের কোন মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় ভাড়া বাসায় এবং সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিলো। এমন সময় আলোর পথ দেখাতে সহায়তা করে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
বর্তমানে তিনি সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছেন এবং তার এক ছেলে কুষ্টিয়া সেন্ট্রাল কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পাশ করেছে। আর ছোট মেয়ে কেজি স্কুলে লেখাপড়া করছে।
ফিরোজা আক্তার সম্পা বলেন, শহরের আমলাপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করার সুবাদে সেখানেই কুষ্টিয়া শহর সমাজসেবা অধিদপ্তরের দক্ষতা উন্নয়ন ও সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে তিনমাসের হাতেকলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। এবং সেখানে থেকে আমাকে একটি সেলাই মেশিন বিনামূল্যে সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হয়। তারপর আমি বাড়িতেই সেলাইয়ের কাজ করতাম। পরবর্তীতে কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোড মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের নিচে ছোট্ট একটি রুম ভাড়া নিয়ে লেডিস টেইলার্স নামের একটি দোকান পরিচালনা করছেন তিনি। মাঝে মাঝে একাই কাজ করেন। তবে কাজের চাপ বাড়লে মাঝে মাঝে দুই-তিনজন সহকারি কারিগর নিয়োগ দেন। এতে করে মাসে অন্তত ১০-১৫ হাজার টাকা আয় হয়।
কুষ্টিয়া জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: মুরাদ হোসেন বলেন, ফিরোজা আক্তার সম্পা এখান থেকে প্রশিক্ষণ লাভ করেই তার সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছেন। তিনি নিজেও এখন উৎসাহ পাচ্ছেন। আমরা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে নানা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি। আগামীতে তার ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য বিনাসুদে ঋণ প্রদান করা হবে।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক রোখসানা পারভীন বলেন, মানুষ কোনো কাজকে অবহেলা আর অবজ্ঞা না করে কঠোর পরিশ্রম করলে তিনি কখনো ‘না খেয়ে মরেন না’। দরিদ্রতাকে জয় করে তিনি এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আরও কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

এক ক্লিকে বিভাগের খবর