শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
করোণা মোকাবেলায় সচেতন করছে জাসদ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী প্লাবন। কুমারখালীতে কঠোর বিধিনিষেধ বাড়িয়েছে করোনা, নাগরিক কমিটির উদ্বেগ আক্রান্ত-৮৭ কুমারখালীতে একাধিক মামলার আসামীকে গায়েবী মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ পাটগ্রামে অসহায় আব্বাস আলীর চোখের চিকিৎসা খরচ যোগাতে পাশে দাঁড়ালেন মানবিক বাংলাদেশ সোসাইটি পাটগ্রামে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে প্রতিবেশী শ্বশুর- বউমা উধাও! মিরপুর পৌর এলাকা ৭ দিনের সর্বাত্মক লকডাউন খোকসায় যুদ্ধকালীন সময়ের পরিত্যক্ত গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছে। সাধারণ জনগণকে বোকা বানিয়ে অর্থনৈতীক শোষণ করা হচ্ছে না তোঃপ্লাবন। মেহেরপুরে High flow oxygen canal উপহার দেওয়াই প্লাবনের শুভেচ্ছা পরিবর্তনের মেহেরপুরের এ্যাডমিন সাইদুর রহমান এর সাথে সহমত পোষণ করলেনঃপ্লাবন।
ঘোষনা :
আন্দোলনের ডাক ডটকমে আপনাকে স্বাগতম , সর্বশেষ সংবাদ জানতে  আন্দোলনের ডাক ডটকমের সাথে থাকুন । আন্দোলনের ডাক ডটকমের জন্য  সকল জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহী প্রার্থীগণ জীবন বৃত্তান্ত, পাসপোর্ট সাইজের ১কপি ছবি ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রসহ ই-মেইল পাঠাতে পারেন। শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক পাস এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্র/ছাত্রীগণও আবেদন করতে পারবেন।   আবেদন প্রেরণের প্রক্রিয়াঃ  ই-মেইল: , প্রয়োজনে মোবাইলঃ  




কুমারখালীতে শিপন হত্যা কে কেন্দ্র করে আ; লীগের দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

মোঃ সবুজ হোসেনঃ কুমারখালি / ৭২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন




কুমারখালীতে শিপন হত্যা কে কেন্দ্র করে আ; লীগের দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি ঃ

কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের নেতার ছেলে শিপন (৩৫)কে কুপিয়ে হত্যা ঘটনার ১২ দিন পার হল। কিন্তু জনমনে হত্যাকান্ডের ধোঁয়াসা এখনও কাটেনি। তবে হত্যাকান্ডে উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন। মামলার বাদীপক্ষ বলছেন গোদের বাজার থেকে আসামীরা দেশীয় ও আগ্নোয়াস্ত্রের মুখে শিপনকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে আসামীরা কবিরের বাড়ির পিছনে রাস্তার উপর ফেলে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

অপরদিকে আসামীপক্ষ বলছেন বাদীপক্ষ সেদিন রাতে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের উপর হামলা করে। হামলায় শিপনের কোপ লাগে এবং সেখানেই শিপনের মৃত্যু হয়।

তবে শিপনকে কারা কখন কেন ? কিভাবে হত্যা করল, তার সঠিক কারন ও ধোঁয়াসা না কাটলেও ঘটনায় বলিরপাঠা বানানো হয়েছে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমনকে। ঘটনার দিন সুমন সন্ধা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পান্টি বাজারে অবস্থিত আওয়ামীলীগ অফিসে সিসি ক্যামেরায় আওতায় ছিলেন। শুধু আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হেয়প্রতিপণ্য ও আইনী জটিলতায় ফেলে অহেতুক হেনোস্তার করার লক্ষ্যে সুমনকে হত্যাকান্ডে জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সমুনের সমর্থক ও স্বজনরা। শুধু সুমন নয়, এঘটনায় মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন ইউনিয়নের কয়েক ডজন নেতা ও কর্মীরাও বলে জানা যায়।

সরেজমিনে এলাকা ঘুরে একাধিক সুত্র থেকে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারে দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হোসেন জাফর সমর্থিত মাসুদ হোসেন মোল্লা গ্রুপের সাথে পান্টি ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমন গ্রুপের এলাকায় বিরোধ চলে আসছে। বিরোধের জেরেই শনিবার (২২ মে) রাতে পান্টি পীতাম্বরবশি কবিরের বাড়ির পিছনের রাস্তায় দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে মাসুদ মোল্লা পক্ষের লোক শিপনের বুকে ধারালো অস্ত্রের কোপ লেগে মাটিতে লুটিয়ে পরে এবং মোস্তফা (মোস্ত) নামের আরো একজনের মাথার ডানপাশে আঘাত লাগে। এছাড়াও সুমন গ্রুপের মিজান, আজিজ ও কবিরসহ আরো কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। এসময় আহত শিপনকে তার চাচাতো ভাই এরশাদ, ছাদের ছেলে আলামীন, মোস্তসহ কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে তুলে নিয়ে দুইশ মিটার দুরের সাখাওয়াতের বাড়ির পিছনে নিয়ে যায় এবং রকির ছেলে উজ্জলের ভ্যানযোগে গোদের বাজারে নিয়ে যায়।

রাত একটার দিকে গোদের বাজারে পৌছালে বাজার পাহাড়াদারেরা শিপনের মাথায় পানি দেয় এবং স্বজনরা পল্লী চিকিৎসক রায়হানকে খবর দেয়। চিকিৎসক রায়হান এসে শিপনকে মৃত ঘোষণা করলে তার স্বজনরা বাড়ি নিয়ে যায়। এছাড়াও আহত মোস্তফার (মোস্ত) মাথার ডানে পাশে তিনটা সেলাই দেন চিকিৎসক রায়হান।

অপরদিকে আহত মিজান, আজিজ ও কবিরদের উদ্ধার করে স্বজনরা রাত তিনটার দিকে প্রথমে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়।

২৩ মে রোববার ভোর রাতে শিপনের স্ত্রী অরুনা খাতুন বলেন, সন্ধায় ওই পাড়ার কবির, মিজান বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। ডেকে নিয়ে কবির হত্যা করেছে। নিহতের চাচী রহিমা বলেন, ঠিক ৯ টার সময় তুলে নিয়ে গিয়ে মারেছে। এরপর খবর পেয়ে লাশ বাড়ি নিয়ে এসে বারান্দায় শুয়ে রাখি। লাশ শোয়ানোর সময় ঠিক রাত ১০ টা বাজে।

২৩ মে রোববার ভোরে পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি ও নিহতের বাবা আলতাফ হোসেন বলেন, শিপন আমার মেঝো ছেলে।গোদের বাজারে ডেকোরেটরের ব্যবসা আছে ওর ওইদিন (শনিবার) রাজীবের সাথে আমার ভাতিজা এরশাদের দুইকথা হয়।এরপর রাজীব সুমনের অফিসে যায়। সুমন লোকজন নিয়ে ওইদিন বিকেলে গোদের বাজারে মিটিং করে। এরপর রাজীব পুলিশ ও কবির বাহিনীর নিয়ে এরশাদের খোঁজে। এরাশাদের না পেয়েই রাত ১১ টার দিকে দোকান বন্ধ করে আসার সময় পথিমধ্যে শিপনকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে।

ওইদিন ভোরে শিপনের বাবা আরো বলেন, পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমনের নেতৃত্বে তার সমর্থক কবির, মিজান,বাবলু মাস্টাররা শিপনকে হত্যা করে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবিকারী ও সুমন গ্রুপের কবিরের স্ত্রী হালিমা খাতুন, সেদিন রাতে এরশাদ, আলামিন,শিপন, মোস্ত,শমসের সহ কয়েকজন প্রথমে বাড়ি পিছনে এসে জাকর (শোরগোল) দেয়। তখন আমার ভাতিজা আজিজ আর আমি বাইরে যায়। বাইরে গিয়ে দেখি বড়বড় লাইটের আলো। এরপর ওরা আজিজকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারতে থাকে। এক পর্যায়ে কবির ও মিজান আসে। তখন আলামিন বড় চাকু বা ডাঁসার মত কিছু একটা দিয়ে কোপাতে থাকে। এসময় আমার ভাতিজা আজিজকে মনে করে আলামিন শিপনের বুকে এক কোপ মারে। তখন শিপন মাটিতে পড়ে গেলে আমি চিৎকার করে বলতে থাকি আলামিন তুমি কার মারলে? কার মারলে? এতো তোমারে শিপন। তখন ওরা লাইট মারে দেখে শিপনের বুকে কোপ লাগেছে।

তিনি আরো বলেন, কোপ লাগার পর এরশাদ বুকে করে শিপনকে তুলে নিয়ে গদের বাজারের দিকে দৌড় মারে।

এবিষয়ে ভ্যান চালক উজ্জল বলেন, রাত ১২ টার দিকে চেঁচামেচি শুনে বাড়ির বাইরে সাখাওয়াতে ঘরের পিছনে রাস্তার উপর আসতেই এরশাদরা বলে তাড়াতাড়ি ভ্যান নিয়ে আই, হাসপাতালে যেতে হবে। এরপর ভ্যান নিয়ে আসলে ওরা শিপনকে ভ্যানযোগে গোদের বাজারে নিয়ে আসলে পাহাড়াদারেরা মাথায় পানি ঢালে।এরপর রায়হান ডাক্তারের খবর দেয়। ডাক্তার এসে শিপনকে মৃত ঘোষণা করেন।

গোদের বাজারের পল্লী চিকিৎসক রায়হান মুঠোফোনে বলেন, সেদিন রাতে আমাকে খবর দিলে গোদের বাজার যায়। গিয়ে হাত ধরে বুঝতে পারি শিপন মারা গেছে। তিনি আরো বলেন, ওই রাতেই মোস্তফার (মোস্ত) মাথার ডান পাশে তিনটা সেলাই করি। গোদের বাজারের নাইট গার্ড আইয়ুব বলেন, শিপনের বাজারের সেক্রেটারি (সাধারণ সম্পাদক) ছিলেন। শনিবার (২২মে) রাত ১০ টার দিকে টাকা কালেকশন করে শিপনের সাথে দেখা হয়। এরপর শিপন বাড়ি চলে যায় এবং আমিও বাড়ি চলে আসি। তিনি আরো বলেন, রাত ১১ টার দিকে বাজার পাহাড়া দিতে যায়। এরপর রাত ১ টার দিকে উজ্জলের ভ্যানে শিপনকে বাজারে নিয়ে আসে এরশাদসহ পাঁচজন। আমরা শিপনের মাথায় পানি ঢালি। পরে ডাক্তার এসে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলার পর থেকেই গ্রেফতারের ভয়ে পলাতক





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....




Archives

এক ক্লিকে বিভাগের খবর